শ্রীনগরে সাচাই শাহ্ মাজারের আড়ালে রমরমা মাদক বাণিজ্য

উপজেলার মাজারের আড়ালে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। শ্রীনগর উপজেলার তারাটিয়া ফকির বাড়ির গদীনশীন পীর বাঁধন শাহ (৩১) খোদ এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে দলবল নিয়ে নিজ আস্তানায় বসে বাঁধন শাহ এর ফেনসিডিল সেবনের ভিডিও ভাইরাল হলে মাজার কেন্দ্রিক মাদক ব্যবসার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

স্থানীয়রা জানায়, বাঁধন শাহ তারাটিয়া গ্রামের সাচাই শাহ মাজারের ৬ষ্ঠ গদিনশীন পীর। এর আগে তার বাবা শাহীন শাহ ওই মাজারের ৫ম গদীনশীন ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে শাহিন শাহ মারা যান। শাহীন শাহ জীবীত থাকাবস্থায়ই বাঁধন শাহ মাদকাসক্ত হয়ে পরে। বাবার মৃত্যুর পর সে ওই মাজারের গদিনশীন হয়। এর পর থেকেই সে বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং দাপটের সাথে মাজার কেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা শুরু করে। ধর্মীয় কারনে স্পর্শকাতর হওয়ায় মাজার নিয়ে কেউ মুখ না খোলায় সে বহুদিন ধরে নিরাপদে মাজার কেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তারাটিয়া মাজারের সামনের রাস্তায় কথা হয় ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধের সাথে। তিনি জানান, সাচাই ফকির অত্র এলাকায় নাম করা পীর ছিলেন। কিন্তু এখন তার আস্তানা কি হচ্ছে এসব? তা আর বলতে চাই না। এলাকার সবাই জানে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শবর্তী হাঁসাড়গাও গ্রামের এক যুবক জানান, আগে মাজারে শীতকালে ওরশ ও ভাদ্র মাসে ভেলা বাসানোর সময় পাগলরা এসে সিদ্ধি (গাঁজা) সেবন করতো ও তা বিক্রি করতো। এখন পীরই সেই দায়িত্ব পালন করছে, আর গাঁজার পরিবর্তে ব্যবসা করছে ফেনসিডিল সহ অন্যান্য মাদকের।

এই বিষয়ে গদিনশীন পীর বাঁধন শাহ বলেন, আমার ফেনসিডিল সেবনের ভিডিওটি সত্যি। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর বেশ কয়েকদিন আমার ঘুম হত না। তখন এক ভক্ত গোয়ালীমান্দ্রা থেকে ফেন্সিডিলগুলো নিয়ে আসে। আমি লোকজন নিয়ে কয়েকদিন খেয়েছি। এর বাইরে কিছু না। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে তৎপর রয়েছি।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.