শ্রীনগরে চাইনিজ রেস্টুরেন্টের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ

শ্রীনগরে চাইনিজ রেস্টুরেন্টের ব্যবসার আড়ালে চলছে অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপ। শ্রীনগর-ভাগ্যকুল সড়কের উপজেলার সদর এলাকার বটতলা সংলগ্ন জমজম টাওয়ারের নিচতলায় প্যারাডাইস রেস্টুরেন্টের পরিচালকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

রেস্টুরেন্টটির পরিচালক মো. সজিব দীর্ঘদিন ধরে ওই চাইনিজ রেস্টুরেন্টের ভিতর বেশ কয়েকটি খুপড়ি ঘর তৈরি করে ব্যবসা করে আসছে। অন্ধকার ও পর্দায় ঢাকা এসব ছোট্র কক্ষেগুলোতে উঠতি বয়সি তরুণ-তরুণীদের অবাদে মেলামেশার সুযোগ করে দিয়ে বাড়তি আর্থিক সুবিধা নেয়া হচ্ছে। শ্রীনগর বাজার ও আশপাশে এ ধরণের বেশকয়েকটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। এসব চাইনিজ রেস্টুরেন্ট বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমজম টাওয়ারের নিচ তলায় প্যারাডাইস রেস্টুরেন্টের ভিতরে আলোবিহীন, ছোট্র কক্ষগুলোতে সোফা পাতা ও পর্দায় ঢাকা। প্রতিটি খুপড়ি ঘরে ২টি করে সোফা পেতে রাখা হয়েছে। তার পাশেই লোকদেখানো মাত্র ছোট্র একটি টেবিল রাখা হয়েছে। এছাড়াও রেস্টুরেন্টের প্রবেশদ্বারে তেমন কোন খালি জায়গা নেই। তাও থাই গ্লাস দিয়ে আড়াল করে রাখা হয়েছে। ওই মার্কেটের দোকানীরা জানায়, রেস্টুরেন্টটিতে স্কুল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের আনাগোনা অনেকাংশে বেশী। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে নানা শ্রেণি পেশার নারী-পুরুষরা এখানে এসে টাইম পাশ করেন। রেস্টুরেন্টে খাবার দাবার অর্ডারের নামে খুপড়ি ঘরে চলে তরুণ-তরুণী কপোত কপোতির অনৈতিক কর্মকান্ড। অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য রেস্টুরেন্টের খুপড়ি ঘরগুলো তাদের কাছে নিরাপদ স্থান। এ সুযোগে রেস্টুরেন্ট মালিকও আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, রেস্টুরেন্টের পরিচালক সজিব পরিচয় দেন তার পিতা একজন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ কারণে তাদের এসব কর্মকান্ডের বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।

প্যারাডাইস রেস্টুরেন্টের পরিচালক মো. সজিবের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার এখানে কোন অসামাজিক কর্মকান্ড হয় না। তিনি স্বীকার করে বলেন, রেস্টুরেন্টের ভিতরে আলাদাভাবে পর্দাঢাকা খুপড়ি ঘর রাখা ঠিক হয়নি। তবে এ বিষয়ে কেউ কখনও নিষেধ করেনি। এককথা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করে বলেন, তার পিতা বর্তমানে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে কর্মরত আছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে জানা গেছে, রেস্টুরেন্টটির পরিচালক মো. সজিবের পিতা পুলিশের সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর মো. জুলহাস। তিনি গত ২০১৯ সনের দিকে অবসরে যান। এক সময় তিনি

শ্রীনগর থানায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে বসবাস করেন শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ভাড়া বাসায়। সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি মাদারিপুরে। এ অঞ্চলে জুলহাস ও তার ছেলেরা গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে থাকেন।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.