জ্বীনের বাদশার ড্রেজার বাণিজ্যে ভরাট হচ্ছে কৃষি জমি ও জলাশয়

শ্রীনগর উপজেলার পাটাভোগ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের উত্তর পাইকশা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কাটা হচ্ছে ফসলী জমি ও ভরাট করা হচ্ছে অসংখ্য কৃষি জমি, জলাশয়। হোগলাগাঁও এলাকার মোতালেব হোসেন ওরফে জ্বীনের বাদশা নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে ড্রেজার বাণিজ্য করে আসছে।

অত্র এলাকার অসংখ্য ফসলী জমির মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে ভরাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও ভরাট বাণিজ্যে বিভিন্ন সময় স্থানীয় রাস্তাঘাট ছিদ্র ও কেটে অবৈধভাবে ড্রেজার পাইপ লাইনের সংযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জ্বীনের বাদশার বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে তিনি উত্তর পাইকশা গ্রামের বাবু মোল্লার বাড়ির পাশে একটি জলাশয় ভরাটের জন্য ড্রেজারের সংযোগ দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাটাভোগ ইউনিয়নের হোগলাগাঁও গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্যর বাড়ির দক্ষিণমুখী উত্তর পাইকশা সংযোগ রাস্তা কেটে ড্রেজার পাইপের সংযোগ দেয়া হয়েছে। একই রাস্তার ওই গ্রামের পাইপ সংযোগের জন্য রাস্তার এক স্থানে ছিদ্র করা হয়েছে। সংযোগকৃত ড্রেজার দিয়ে উত্তর পাইকশা গ্রামের দক্ষিণ দিকের একটি বিলে ফসলী জমির মাটি উত্তোলণ করা হচ্ছে। ফসলী জমির মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে উত্তর পাইকশার বাবু মোল্লার বাড়ি সংলগ্ন একটি জলাশয়।

স্থানীয়রা জানায়, আমাদের এ রাস্তার সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা রাস্তার বিভিন্ন অংশ কেটে ড্রেজার পাইপের লাইন নিচ্ছে। কোন কোন রাস্তা ছিদ্রও করছে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা। জ্বীনের বাদশাসহ এলাকায় একটি প্রভাবশালী ড্রেজার সিন্ডিকেট চক্র ভরাট বাণিজ্যের নামে গ্রামীন রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতিসাধান করে আসছে। কৃষি জমি ব্যবহার করে যত্রতত্রভাবে বেশ কয়েকটি ড্রেজারের পাইপ লাইন টানা হয়েছে। এতে ফসলী জমিতে বিভিন্ন কাজে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তারা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ড্রেজার ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এ বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

ড্রেজার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য মোতালেব ওরফে জ্বীনের বাদশার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ড্রেজার খুলে ফেলবো। আমি রাস্তা ছিদ্র করে পাইপের লাইন নেই নাই। আমি রাস্তা সামান্য কেটে পাইপের সংযোগ দিয়েছি। রাস্তা ছিদ্র করে অন্য ড্রেজার ব্যবসায়ীরা। গিয়ে দেখেন হোগলাগাঁও বাজারের সামনে তালতলায় পাকা সড়ক ছিদ্র করে ড্রেজারের বিশাল লাইনের সংযোগ দেয়া আছে। আমি রাস্তা ছিদ্র করি না। আপনার নাম জ্বীনের বাদশা হলো কেন এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, সবাই আমাকে ভালোবেসে জ্বীনের বাদশা নামে ডাকে।

পাটাভোগ ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী তহশিলদার ইউনুছ হোসেন টুটুল জানান, এখনই খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। সংবিধানের ১৮ ‘ক’ এর অনুচ্ছেদে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ ও জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০’র বিধান অনুযায়ী খাল-বিল, নদী-পুকুর ও জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ হলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ড্রেজার ও মাটি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের ক্ষমতার কাছে পেরে উঠা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ছাড়পত্রবিহীন এসব ড্রেজার উচ্ছেদ করলেও কিছুদিন পর ড্রেজার সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যরা ড্রেজার ফের চালু করছে। কোন ভাবেই থামছে না অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যের দৌরাত্ব।

তবে সুশিল মহল মনে করছেন, ড্রেজার সিন্ডিকেট চক্রের মূলহোতাদের চিহ্নিত করে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলে এলাকায় অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য বন্ধ হত। তাহলে এ অঞ্চলের অসংখ্য ফসলী জমি ও জলাধার ভরাটের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.