গজারিয়া উপজেলার ৭৪ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই নেই শহীদ মিনার

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮৭টি। তবে এর মধ্যে ৭৪টিতেই নেই স্থায়ী শহীদ মিনার।

এ অবস্থায় প্রতিবছর কলাগাছ, বাঁশের কঞ্চি ও সাদা কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ অথবা অন্যত্র গিয়ে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস পালন করে আসছে।

উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৮৭টি। এরমধ্যে টেঙ্গার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভবেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুরান বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১৩টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার আছে। বাকি ৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনেও কোনো শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি।

ভিটিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বললো, প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় সবাই মিলে প্রতিবছর কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। আমরা চাই, সরকার যেন প্রতিটি স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেয়।

আড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. রীনা বেগম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনেও শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারি না।

তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষিকা জানান, বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার থাকলে স্থাপনাটি দেখে শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহান ভাষা সংগ্রাম ও শহীদদের কথা জানার আগ্রহ তৈরি হতো ও জানতে পারতো। তাদের মাঝে দেশপ্রেম তৈরি হতো এবং দিবসটি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হতো।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি শহীদ-ই-হাসান তুহিন বলেন, শহীদ মিনার ভাষা শহীদদের স্মৃতি বহন করে। যাদের জন্য আজ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারি। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার থাকলে শিশুরা ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে সচেতন হবে এবং আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উদযাপন করতে পারবে। যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সেসব বিদ্যালয়ে সরকারি খরচে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। বাকি ৭৪টিতে এখনো শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। এতে শহীদ দিবসে শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

আরাফাত রায়হান সাকিব/এমআরআর/জিকেএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.